কোভিড_১৯ এর প্রভাব

✍️মিরাজুল ইসলাম মজুমদার। হাইলাকান্দি

সারা বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ সময় পার করছে। কোনো দেশই কোভিড-১৯ এর ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।পৃথিবীর সব নামকরা শহর আজ লকডাউন হয়ে আছে। সব ব্যস্ততা কেটে গেছে, সবকিছু থমকে গেছে, সময় যেন কোনো এক অশুভ শক্তি এসে থামিয়ে দিয়ে গেছে।।

লকডাউনের এই দিনগুলোতে ঘরে আটকে আছি আমরা সবাই।ব্যস্ততা নেই এখন আমাদের অনেকেরই। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীদের। ঘরে বসে সময় কাটাতে কাটাতে সবকিছু এখন অনেকটা একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে। আমরা হয়তো ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছি, তবে সময় কি থমকে আছে? নেই!

কেমন কাটছে আপনার দিন????
এই দিনগুলোতেও আমাদের চারপাশের অনেকেই অনেক কিছু করছেন; কেউ সুবিধাবঞ্চিতের দুয়ারে খাবার পৌঁছাচ্ছেন, কেউ ঘরে বসে অফিসের কাজ করছেন, কেউ অন্যান্য সামাজিক কাজ করছেন। তবে এর মধ্যেও কেউ কেউ আছে যাদের এসবের কিছুতেই যেন কোনো সংযুক্তি নেই। এমন দিনে একঘেয়েমি কাটাতে এমন অনেক কিছুই আছে, যা আমরা করতে পারি; যা আমাদের এই গৃহবন্দিত্বের দিনগুলোকেও ফলপ্রসূ করে তুলবে।

‌বই_পড়া।।।।

বই পড়া বলতেই যাদের মনে অনেকগুলো বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদ চোখে ভাসছে, তাদের সময় যে বই পড়েই কাটছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অবসর কাটানোর অনেকেরই পছন্দ বই পড়া। কেননা বই-ই তো আমাদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। সাহিত্যের রস উপভোগের সেরা সময় এই অবসর। এ সময়ে পড়ার জন্য আপনার যে বইটি ভালো লাগে সে বইটিই পড়ুন, তা হতে পারে গল্প, কবিতা বা উপন্যাস বা যেকোনো ঘরানার বই-ই।বই সব সময়ের জন্যই ভালো বন্ধু, বই পড়ার মধ্যে যে আমেজ আছে, তা এ সময়ে উপভোগ করা যাবে। একইসাথে সময়ও কেটে যাবে। আমাদের অনেকের সংগ্রহেই এমন কিছু বই আছে, যেগুলো নানা ব্যস্ততায় বা অনীহায় পড়া হয়নি। পড়ব, পড়ব ভেবে যেসব বই পড়েননি, এখন সময় সেসব বইয়ের ধুলো সরানোর। ইচ্ছে হলে আমরা আমাদের মনমতো বই অনলাইন থেকেও বই পড়তে পারি। বই পড়া আপনাকে পৌঁছে দেবে ভাবনার নতুন আঙিনায়। এর মতো উপভোগ্য বিষয় এই অবসরে খুব কমই আছে।।।।

‌অনলাইন_কোর্স

বিশ্বায়নের এই নতুন যুগে আমাদের পৃথিবী ছোট হয়ে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। সবাই আমরা এখন এর সুবিধা-অসুবিধা দুটোই ভোগ করছি। আর বিশ্বায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে যোগাযোগ, যা সম্ভব হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এমন সময় আমরা ঘরে বসেই অনলাইন কোর্সগুলোর মাধ্যমে সংযুক্ত হতে পারি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষকদের সাথে।অনলাইন কোর্সগুলো লুফে নিন,বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ তাদের ওয়েবসাইটগুলোতে অনলাইন কোর্স চালু করেছে। তাছাড়া এই করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেক নামী-দামী অনলাইন কোর্সগুলো এখন বিনামূল্যে কোর্স করাচ্ছে। এতে করে এই সুবিধা লুফে নিচ্ছে অনেকেই, সময় আপনারও!!!!

‌পরিবারকে সময় দেওয়া

ব্যস্ততম বর্তমান সময়ে পরিবারের সাথে খুব বেশি সময় কাটানো হয়ে ওঠে না। পরিবারকে নিয়ে এসময়ে বাইরে বের হতে না পারলেও, চার দেয়ালের মধ্য থেকেও নানা উপায়ে ভালো সময় কাটানো যায়। এ সময়ে সচেতন থাকার জন্য পরিবারকে আগ্রহী করা জরুরি, কেননা ঘরে থাকলে তাদের সাথেই সময় পার করতেই হয়। এমন সময়টাকে আনন্দঘন করে তোলা যায়। এ সময়টা বিভিন্নভাবে পরিবারের সাথে কাটানো যায়।পরিবারের ছোটদের সময় দেওয়াটাও ভালো উপায়। এছাড়াও পরিবার কী চায় বা পরিবারে কোন বিষয়টা জমে উঠবে, তা তো আমরা নিজেরা ভালোই জানি। সেসবের দ্বারা এখন পরিবারের সাথে ভালো সময় কাটানো সম্ভব। আর পারিবারিক ঝামেলামুক্ত থাকা এখন অতীব জরুরি। পরিবারের বৃদ্ধদের দেখাশোনা করার জন্য এই সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বৃদ্ধরাই এখন সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন। তাই পরিবারের সকলকে নিয়ে একসাথে ভালো থাকতে পরিবারের সাথে সময় কাটানোর গুরুত্ব অত্যধিক।

‌কম্পিউটারনিয়েজ্ঞানবৃদ্ধি…….

আইটি সেক্টরের উন্নতির এমন রমরমা পরিবেশে আপনার দক্ষতার পরিমাপ হবে কম্পিউটার। কম্পিউটার দক্ষতা বা জ্ঞান কম থাকায় আমরা অনেকেই নিজেদের কর্মস্থলে পিছিয়ে আছি। তাই এই দিনগুলোতে গুটিসুটি মেরে না থেকে আমরা নিজেদের ঝালাই করে নিতে পারি সেসব দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। এতে করে আমাদের সময়টা খুব বেশি করে কাজে লাগবে।ঝালিয়ে নিন আপনার কম্পিউটার দক্ষতা। আর নতুন কিছু শিখে আপনার বন্ধু বা সহকর্মীদের তাক লাগানোর সুযোগটা হাতছাড়া কেন করবেন? কম্পিউটারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার, যেগুলো আপনার কর্মক্ষেত্রে আপনাকে দক্ষ এবং আপনার কাজের গতি বাড়াবে, সেসবের ব্যবহার করা শিখে নিন। মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবির, টেলি সফটওয়্যারগুলোতে দক্ষতা আপনাকে আর দশজন কর্মীর চেয়ে অনেক এগিয়ে রাখবে,যেমন আমি আপনাদের দোয়ায় এই সময়ে টেলি আপ অনেক কিছু জানতে পারলাম। সেগুলো শিখে নিন। তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে সব কিছুই এখন ইন্টারনেট আর কম্পিউটারভিত্তিক, তাই এই সময়কে জে লাগিয়ে এসব শিখে নেওয়া মোটেও খারাপ পরিকল্পনা নয়।।।।

শিল্পসঙ্গ

আমরা যারা শৌখিন এবং নান্দনিকতায় ডুবে থাকতে পছন্দ করি, তাদের অনেকেরই আকাঁআকি পছন্দ। ব্যস্ততম দিনগুলোতে ক্যানভাস বা সাদা আর্ট পেপারে ইচ্ছে থাকলেও রং-পেন্সিল ঘষতে পারি না। তবে এই অবসরে, ঘরে বসে নিজের ইচ্ছেমতো, অনেক সময় হাতে রেখে আঁকিবুঁকি করা কিন্তু মোটেও খারাপ না। এভাবে হয়তো আঁকিবুঁকির হাতটাও আরো পাকা হবে। যাদের আঁকিবুঁকির স্বভাব নেই তারা রঙতুলি নিয়ে বসতে পারে, হয়তো এতে করে নিজের আরেকটা সুপ্ত প্রতিভাও বিকশিত হবে, আর সময়টাও কাজে লাগবে। শুধু আঁকাআঁকিই নয়, শিল্পের অন্য শাখা-প্রশাখায় বিচরণ করার জন্যও এটাই উপযুক্ত সময়।।।।

লেখালেখি

ব্লগটি যিনি পড়ছেন, ধরেই নিচ্ছি, আপনার অনলাইনে পড়ার অভ্যাস আছে। এবার একটু নিজেকে মেলে ধরুন। একটু-আধটু লেখুন। হতে পারে কবিতা, গল্প বা আপনার রচিত যেকোনো সাহিত্যকর্ম। আর যারা আগে থেকেই লেখক, তারা তো এই সময়টাতে লেখা দিয়ে অনেক কিছু করতে পারবেন। যেমন ধরুন, একটা সচেতনতামূলক কবিতা, গান, গল্প বা রচনা! লেখালেখি সবসময়ই নিজেকে মেলে ধরার, নিজেকে প্রকাশের, নিজের মত প্রকাশের এক উৎকৃষ্ট মাধ্যম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *