হাথরাস গণধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

আমার আসাম প্রতিবেদন, ২ অক্টোবর, শুক্রবার:-
সমস্ত দেশব্যাপী প্রতিবাদের পর ও নিরব ছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ। কংগ্রেসের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যোগী আদিত্য নাথের পদত্যাগের দাবি করছেন। আজ টুইট করে জানিয়ে দিলেন, দোষীরা এমনভাবে শাস্তি পাবে যা ভবিষ্যতের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সম্প্রতি রাজ্যের বলরামপুর, বুলন্দশহর, আজমগড়ে ও হাথরাস নারী যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পরপর এই ধরনের ঘটনায় গর্জে উঠেছে সমগ্র দেশ। এছাড়াও হাথরাসের নির্যাতিতার বাবাকে জোর করে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে । সম্ভবত চাপে ছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অবশেষে আজ নীরবতা ভঙ্গ করে টুইট করলেন তিনি।

হিন্দি ভাষার টুইটে তিনি লেখেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশের মা-বোনেদের সম্মান ও আত্মমর্যাদার ক্ষতি করার কথা যারা কেবল ভাববেও, তাদের বিনাশ নিশ্চিত। তারা এমন শাস্তি পাবে যা ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আপনাদের উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রতিটি মা-বোনের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটা আমাদের সংকল্প। আমাদের প্রতিজ্ঞা।’’

আজ শুক্রবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হাথরাসের নির্যাতিতার পরিবারকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। নির্যাতিতার বাড়িতে প্রায় ২০০ পুলিশকর্মী দ্বারা বাড়ি আবদ্ধ করা হয়েছে। বাড়ির সদস্যদের ফোনও তাঁদের কাছ থেকে নিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নির্যাতিতার ভাই জানিয়েছে, তাদের পরিবারের কাউকে বাড়ি থেকে বেরতে দেওয়া হচ্ছে না। কারও সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। ফোনও বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরাস জেলার ওই দলিত যুবতী ধর্ষণ এবং নৃশংসতার শিকার হন। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যোগী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের নিরাপত্তার কোনও চিহ্নমাত্র নেই। যোগী আদিত্যনাথের উদ্দেশে তিনি টুইট করে লেখেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের ন‌িরাপত্তার জন্য আপনি দায়বদ্ধ।’’

বৃহস্পতিবার হাথরাসের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ও রাহুল গান্ধী। কিন্তু দুই কংগ্রেস নেতা-নেত্রীর পথ আটকে দেয় পুলিশ। রাহুল অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁকে মাটিতে ফেলে লাঠিপেটা করেছে। একই ভাবে শুক্রবার হাথরাসে যাওয়ার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের পথও আটকায় উত্তরপ্রদেশের পুলিশ। তৃণমূল সাংসদদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *