বদরপুরে বিপুল সংবর্ধনায় জোয়ারে বাসলেন বরাকের প্রতিবাদী কণ্ঠ প্রদীপ দত্ত রায় ।

বরাকের কয়লা সিন্ডিকেটের মুখপাত্র বিশ্বরূপ বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে এক জেলা সভাপতি

আমার আসাম ,রাজ আদিত্য দাস শ্রীগৌরী ০৮ নভেম্বর ২০২০ ::—-

ভারতবর্ষ গনতান্ত্রিক দেশ, এই দেশে প্রতিজন নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। একজন অসমীয়া মূখ্যমন্ত্রী হতে পারলে একজন বাঙালির ও মূখ্যমন্ত্রী হওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই বাঙালি জাতিকে অবহেলার চোখে দেখে কেউ মূখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখলে তা কখনো পূর্ণ হবে না। রবিবার বদরপুরে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আহুত এক অনুষ্ঠানে একথাগুলো বলেন আকসার প্রবীন নেতা প্রদীপ দত্তরায়। তিনি বলেন বরাক ও ব্রম্মপুত্র আসামের দুটি উপত্যকা হলেও বরাক উপত্যকাকে প্রতিটি সরকারের আমলে অবহেলার চোখে দেখা হয়। বর্তমান সরকারের আমলে বরাক উপত্যকাকে শুধুমাত্র অবহেলা নয় তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজে অবহেলা সহ চাকুরির ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে ব্রম্মপুত্র উপত্যকা থেকে এনে চাকুরী দেওয়া হচ্ছে। শিলচর শহরকে স্মার্ট সিটি সহ করিমগঞ্জ জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ললিলপ দেখিয়ে ভোট বৈতরণী পার হলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এই সরকারের আমলে কিছু পাওয়া তো দূর উল্টো বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সমস্ত রাজ্যজুড়ে চলছে দূর্নীতি। বাদ যায়নি বরাক ও। এই উপত্যকায় সিন্ডিকেড রাজ কায়েম করে চলছে কোটি কোটি টাকার দূর্নীতি। আর এসবে জড়িত দলের স্বয়ং রাজ্য উপসভাপতি বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে এক জেলা সভাপতি ও। তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চলছে। এই অবস্থায় বিশ্ববাবু বদরপুর থেকে বিধায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন এধরনের দূর্নিতি পরায়ন নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদেরকে তাড়িয়ে দিতে হবে। দত্তরায় বলেন বরাককে কিছু পেতে হলে আন্দোলন করতে হয়। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা রক্ষা সবকিছুতেই আনদোলন করতে হয়েছে। আসাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আকসার দীর্ঘ আনদোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন আর কতোদিন বরাকের মানুষকে বঞ্চনার শিকার হতে হবে। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বরাকের তিন জেলাকে নিয়ে বিকল্প দল গঠন করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। বড়োলেন্ড গঠন হওয়ার ফলে বড়োরা আজ উন্নত জাতি অথচ বরাকে পঞ্চাশ লক্ষ বাঙালি থাকার পরও আজ আমরা অনুন্নত জাতি হিসেবে পরিচিত। তাই বরাকের বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে আগামী মাসে নতুন দল গঠন হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বরাকের অনুন্নয়ন বা দূর্নিতীর পেছনে বিরুধী দলের অনেক নেতা ও বিধায়কের হাত রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন প্রতিটি বিষয়ে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তাই বরাকের হাল ফেরাতে উপত্যকার জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্বভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এদিনের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মনসুর আলম। সবশেষে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ আব্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *