বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যের ঘুম উধাও করে দিচ্ছেন বদরপুরে বিজেপির নয়া দাবিদার শুভজিৎ বণিক

আমার আসাম ,রাজ আদিত্য দাস শ্রীগৌরী ,শ্রীগৌরী , ৮ নভেম্বর :

নির্বাচনের ঢাকে ভাল করে কাঠি পড়ার আগেই বদরপুর বিধানসভা আসনে বিজেপির টিকিট প্রত্যাশীদের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই এখনই প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। একান্নব্বই সালে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সমর্থকদের মধ্যে আশার আলো দেখিয়েও এক প্রতিদ্বন্দ্বীর মৃত্যু দীপক দেবকে ঘিরে সব আশা জলাঞ্জলি দিতে হয়। এরপর একাধিকবার দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েও ফেল মারেন তিনি। যার ফলে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মীসমর্থকরা বিকল্প খোঁজা শুরু করেন। হাইকমান্ডও তাঁর পরিবর্তে কোনও মজবুত প্রার্থীর খোঁজ চালায়। ময়দানে আবির্ভাব ঘটে করিমগঞ্জের ‘হেভিওয়েট ‘ নেতা বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যের। মাঝখানে আরও দু’একজন বদরপুর আসনে বিজেপির হয়ে টিকিটের জন্য হত্যে দিতে দেখা যায়। যা-হোক, সব চুকিয়ে গেলে দেখা যায়, প্রতিপক্ষ কংগ্রেস, এআইডিইউএফের সঙ্গে লড়তে হলে নয়া মুখ দরকার। সে জায়গায়ই ময়দানে নামেন বিশ্বরূপবাবু।

   কিন্তু এবার তাঁরও গলায় কাঁটা হয়ে ময়দান দাপাচ্ছেন তরুণ কর্মী শুভজিত বণিক। শুভজিতবাবুর কথা হলো, দক্ষিন বদরপুরের বিস্তৃত এলাকায় তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। ওসব এলাকায় নানা উন্নয়নমূলক কাজে তিনি জড়িত বহুদিন। তার মতে বিশ্বরূপবাবুকে মনোয়ন দিলে দলের ভরাডুবি হবে। কারণ, তাঁর গ্রহণযোগ্যতা একেবারেই ‘লোক দখানো ‘। কাজের কাজ কিছুই করেন নি। উল্টো দলে একধরণের স্বৈরাচারের আমদানি করেছেন বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য। সমর্থকবেশী কতিপয় যুবক নিয়ে চলাফেরা ছাড়া জেলা কিংবা বদরপুরে তাঁর কোনও গণনভিত্তি নেই। তাই কর্মী সমর্থকরা তীর্থের কাকের মতো ফের নয়া মুখ খুঁজছেন। শুভজিতের কথায়, সেদিক বিবেচনা করে দলের বৃহদাংশ এমনকী, রাজ্য নেতৃত্বও তাঁর পক্ষেই দাঁড়াচ্ছেন। 

Follow করুন আমাদের Instagram

   এদিকে, এই নয়ামুখ ও বয়সে তরুণ শুভজিতের দ্রুত উত্থান দেখে বিশ্বরূপবাবু তাঁর বিরুদ্ধে অন্ধকারে তলোয়ার চালানো শুরু করেছেন। এরই জবাবে সাংবাদিক ডেকে শুক্রবার শুভজিত বণিক সরাসরি বলেন, ওনার ( বিশ্বরূপ) দিন ফুরিয়ে আসার আভাস পেয়ে উল্টোপাল্টা বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন, শুভজিতের সদস্যপদ নিয়ে সংশয় ছাড়াচ্ছেন। অথচ, তাঁর জানা নেই যে, ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সবরকম যোগ্যতা আছে শুভজিতের। নিজে একজন সমাজকর্মী। এই করোনাকালেও তিনি মানুষের মাঝে থেকে তাদের সেবা ও সাহায্যে নেমে পড়েন। আর ওই দিনগুলোতে বিশ্বরূপবাবু কী করেছেন, সে নিয়ে প্রশ্ন খোদ দলের ভেতরেও। বরং একাংশ বিশ্বরূপবাবুর কাজকর্মে অসন্তুষ্ট। এরমধ্যে যোগ হয়েছে সম্প্রতি রেলওয়ে কলোনিসহ বহু এলাকায় তাঁর একাংশ কর্মী-সমর্থকের বাড়াবাড়ি। এখবর মিডিয়ার কানে পৌঁছতে দেরি হয় নি। একাংশ সমর্থক বরীতিমতো হুমকির সুরে বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যকে সমর্থন না করলে ফল ভাল হবে না বলে শাসানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর বিরোধী শিবিরের। বিষয়টি নিয়ে শুভজিত বণিকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এবং এরকম অন্ধ সমর্থকদের কেন প্রশ্রয় দিচ্ছেন বিশ্বরূপ, সে প্রশ্ন তোলেন বণিক। 

    তাঁর কথা হল, হাইকমান্ড যদি তাঁকে মনোনয়ন দেয়, তবে বিশ্বরূের এত গাত্রদাহ কেন ? আর বণিকবাবুর দৃঢ় বিশ্বাস, হাইকমান্ড তাঁকেই বদরপুর বিধানসভা আসনে মনোনয়ন দেবে। তবে দীপক দেব সম্পর্কে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তিনি মনে করেন দীপকবাবু একজন পোড়খাওয়া ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাওয়া নিষ্ঠাবান নেতা। দল যদি তাঁকে মনোনয়ন দেয়, তিনি মনেপ্রাণে দীপককবাবুর হয়ে কাজ করবেন। কিন্তু দীপকবাবুর পুরনো ধার এখন কতটুকু, সেটা নিয়ে সংশয়। একাধিকবার পরাজিত হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তাঁকে ঘিরে যে হতাশা, সেটা কাটিয়ে ওঠা কঠিন বলে মনে করেন বণিক। অতএব, তাঁর মতে বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য যতই হম্বিতম্বি করুন না কেন, বাস্তবের ভূমি তাঁর পক্ষে মোটেও নেই, আর দীপক দেব নিয়ে দলের মধ্যে নিরাশার বিষয় বিবেচনা করেই হাইকমান্ডের ওপর ভরসা করছেন তিনি।                                              

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *